6 Most productive apps that I use – Daily!

0

আমরা আমাদের স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি। আমাদের নিজেদের ফোনেও অনেকগুলো App Install করা আছে। যার বেশির ভাগ App -ই খুব বেশি দরকারি না। তবে এমন কিছু App আছে যেগুলো ছাড়া আমাদের একদমই চলে না।

আজকে আমরা আপনাদের সাথে এমন ৬-টা অ্যাপের এর নাম বলব। যেগুলো খুবই Productive এবং এই অ্যাপ গুলো আমরা রেগুলার ব্যবহার করে থাকি। এই অ্যাপ গুলো আমাদের কাজ, দিন সবকিছু মিলিয়ে আমাদের জীবনটাকে অনেক সহজ করে দেবে।

আমরা Sure এই ৬-টা অ্যাপ থেকে কোন একটা অ্যাপ আপনার কাজে আসবে। তবে বলে রাখা ভালো যে, এই লিস্টের মধ্যে Social Media’র কোন অ্যাপ নেই। কারণ আমরা জানি সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপ গুলো আমরা সবাই প্রচুর ব্যবহার করে থাকি।

  • Lastpass (লাস্টপাস):
Lastpass লাস্টপাস

আমাদের লিস্টের প্রথম অ্যাপ এর নাম হচ্ছে “Lastpass” । আমাদের মত অনেকেই হয়তো রয়েছেন যারা Internet-এ প্রচুর পরিমাণে ঘাটাঘাটি করেন। নানান ধরনের Website এবং অ্যাপে Account তৈরি করেন। অনেক গুলো Account থাকায় আমারা পাসওয়ার্ড গুলো ভুলে যাই। যারা পাসওয়ার্ড ভুলে যান তাদের জন্য Solution হচ্ছে Lastpass  

কিছু কিছু সময় দেখা যায়, অনেকেই পাসওয়ার্ড গুলো ভুলে যাওয়ার ভয়ে নোট করে রাখে ডায়েরি কিংবা মোবাইলের নোটপ্যাডে। এতে করে আপনার ডায়েরি কিংবা মোবাইল নোট গুলো খুব সহজেই যে কেউ চেক করে আপনার পাসওয়ার্ড জেনে যেতে পারে। ডায়েরি কিংবা নোট প্যাডে লিখে রাখার থেকে Lastpass-এ আপনার পাসওয়ার্ড 100% সুরক্ষিত। কারণ আপনি যখনই Lastpass-এ আপনার পাসওয়ার্ড গুলো সুরক্ষিত রাখবেন, তখন Lastpass-এ আপনাকে একটি Account তৈরি করতে হবে এবং এই একাউন্টটি পাসওয়ার্ড দ্বারা প্রোটেক্টেড থাকবে। এবং আপনি সেইভ থাকা যেকোনো ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপে log-in করার সময় Lastpass থেকে Automatically পাসওয়ার্ডটি Refill হয়ে যাবে। তাই আপনাকে বারবার টাইপ করতে হবে না। সেইসাথে Lastpass আপনি PC’র বিভিন্ন ব্রাউজারেও ব্যবহার করতে পারেন।

সুতরাং PC এবং Mobile দুই জায়গাতেই আপনার পাসওয়ার্ড গুলো একটা অ্যাপের মাধ্যমে 100% সুরক্ষিত থাকবে। সেইসাথে আপনি চাইলে লাস্ট পাসে সেইভ থাকা পাসওয়ার্ড গুলোকে Reset করে Auto Generated Strong পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখতে পারে।

আপনি পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও সমস্যা নেই। হ্যাকাররাও আপনার কোন একাউন্ট হ্যাক করতে পারবেনা। কারন আপনার পাসওয়ার্ড গুলো অনেক Strong । তবে আপনাকে শুধু একটা পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হবে যেটা Lastpass এর একাউন্টে দেওয়া থাকবে। 

সেইসাথে মোবাইলে Lastpass আনলক করার জন্য Fingerprint ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে আপনার ফোন থেকে খুব সহজেই কেউ আপনার Lastpass App-এ প্রবেশ করতে পারবে না। 

মোটকথা, এই অ্যাপটি ব্যবহারে আমরা প্রচুর পরিমাণে উপকৃত হয়েছি। আমাদের এখন পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয় না। আমরা সব পাসওয়ার্ডগুলো Lastpass অ্যাপের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখতে পারি। 

  • My Airtel (মাই এয়ারটেল):
My Airtel মাই এয়ারটেল

আমাদের লিষ্টের ২য় অ্যাপটির নাম হচ্ছে “My Airtel” । আমি একজন Airtel User, যে কারণে মাই এয়ারটেল অ্যাপটি আমার রেগুলার ব্যবহার করতে হয়. আপনারাও অনেকে হয়তো রয়েছেন যারা এয়ারটেলের রেগুলার ইউজার। যারা বিভিন্ন ফিচার অথবা Service উপভোগ করতে হলে Manually করেন। যেমন SSID গুলো ডায়াল করে কিংবা কাস্টমার কেয়ারে কল দিয়ে। এই কাজগুলো নিমিষেই করে ফেলতে পারবেন My Airtel অ্যাপ এর মাধ্যমে একদম ফ্রিতে।

এছাড়া My Airtel-এ কিছু হট অফার থাকে। যেগুলো আপনারা বাইরে পাবেন না। যেমন আপনারা যদি Internet Package কিনতে চান তাহলে দেখতে পাবেন, My Airtel অ্যাপে বেশকিছু প্যাকেজ দেয়া আছে। যা একদম অল্প টাকাতে খুব বড় Internet Package । যেটা আপনার টাকা এবং কষ্ট দুটোকেই বাঁচিয়ে দিবে। 

সেই সাথে Internet Balance, Mobile Balance চেক করা থেকে শুরু করে কাস্টমার ম্যানেজারের সাথে live Chat করা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নেয়া, বিভিন্ন আপডেট পাওয়া। যেমন বর্তমানে করোনা ভাইরাস প্রচালিত তারপর বর্তমানে আবার রমজান মাস। এই বিষয়গুলোর আপডেট অ্যাপে দেয়া থাকে। 

আপনারা অবশ্যই চেক করে নিবেন। ফিচার এর লিস্ট গুলো বলে শেষ করা সম্ভব না। আমরা বলব আপনি যদি Airtel User হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই My Airtel অ্যাপ টি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আমরা আশা করি আপনি প্রচুর পরিমাণে উপকৃত হবেন। 

  • IFTTT (ইফ দিস দ্যান দ্যাট):
IFTTT ইফ দিস দ্যান দ্যাট

আমাদের লিস্টের তৃতীয় অ্যাপটির নাম হচ্ছে “IFTTT” । যার পুরো নাম হচ্ছে “If This Then That”। এই অ্যাপটি আমরা Regular ব্যবহার করি। 

এবং এই অ্যাপটি আমাদের জীবনকে খুবই সহজ করে দিয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ কে একসাথে Control করতে পারবেন এবং Automate করতে পারবেন। যেমন আমরা যখনই ফেসবুকে কোন একটা Status Publish করি, সেটা সাথে সাথে Automatic Twitter-এ tweet হয়ে যাবে। আমরা যখনই ইউটিউব এ কোন কিছু আপলোড করি, সেটা Automatic টুইটারে কিংবা ইনস্টাগ্রামে শেয়ার হয়ে যায়। তার মানে হচ্ছে আপনি সবগুলো অ্যাপ কে একসাথে Integrate করতে পারবেন মাত্র একটি অ্যাপের মাধ্যমে। 

সেই সাথে আমাদের বাসায় কিছু স্মার্ট ডিভাইস আছে যেগুলোকে আমরা এই অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই Control করতে পারি। যেমন আমরা Geo Location Tag করে দিয়েছি, যখনই আমরা ফোনটি নিয়ে নির্দিষ্ট একটি এরিয়ার বাইরে চলে যাই, তখনই আমাদের বাসায় থাকা যত Smart Light, Fan, AC ইত্যাদি সবকিছু Automatic Off হয়ে যায়। আবার যখনই আমি ফোনটি নিয়ে নির্দিষ্ট এরিয়ার মধ্যে চলে আসি তখনই সবগুলো Automatic On হয়ে যায়।

এভাবে আপনারা আপনাদের বাসার স্মার্ট ডিভাইসগুলো এই অ্যাপের মাধ্যমে Control করা থেকে শুরু করে নানান ধরনের ফিচার এই এপের মধ্যে উপভোগ করতে পার‌বেন।

এবং এই ফিচারগুলো কে বলা হয় ‘Applets’ আপনারা যদি গুগলে সার্চ করেন ‘Most Usefull IFTTT Applets’ লিখে, তাহলে অনেক গুলো লিস্ট পাবেন যেখানে কোন না কোন একটা আপনার কাজে লাগবেই। 

  • AirDroid (এয়ারড্রইড):
AirDroid এয়ারড্রইড

আমাদের লিস্টের চতুর্থ অ্যাপটি হচ্ছে “AirDroid” । এই অ্যাপটি হয়তো অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। AirDroid এর মাধ্যমে আপনার Mobile এবং PC দুটোকেই একসাথে Connect করতে পারবেন Wirelessly

আমরা সবচেয়ে বেশি যে ফিচারটি ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে File Transfer করা। আমাদের PC থেকে অনেক সময় মোবাইলে ছোটখাটো File Transfer করতে হয়। যেগুলো ক্যাবল দিয়ে বারবার Transfer করা অনেকটা বিরক্তিকর মনে হয়। যার কারণে আমরা Wirelessly ফাইলগুলো PC থেকে মোবাইলে কিংবা মোবাইল থেকে PC-তে খুব সহজেই Transfer করতে পারি AirDroid দিয়ে

এছাড়াও আপনারা চাইলে মোবাইলের স্ক্রিন আপনার PC-তে দেখতে পারেন এবং পিসিতে মোবাইলের স্ক্রিন রেকর্ড করতে পারেন। পিসি থেকে আপনার মোবাইলকে খুব সহজেই Control করতে পারেন, আপনার মোবাইলের Camera PC-তে ব্যবহার করতে পারেন।

আর একটা বিশেষ ফিচার আমাদের কাছে বেশি ভালো লেগেছে এবং আমরা যেটা বেশি ব্যবহার করি সেটা হচ্ছেঃ মোবাইলের Notification PC-তে দেখা। আমরা যখন PC-তে কাজের মধ্যে বিভোর থাকি তখন বারবার মোবাইলে নোটিফিকেশন আসলে মোবাইল Unlock করে Notification চেক করাটা অনেকটা ঝামেলার মনে হয়। এবং কিছু টাইম নষ্ট হয় সেই কারণে মোবাইলের Notification গুলো আমরা সরাসরি PC-তে দেখতে পারি AirDroid এর মাধ্যমে। এই ফিচারটি আমাদের জন্য অনেক Time Seving

এছাড়াও AirDroid দিয়ে মোবাইলের সকল File, Photos, Audio, Video, Contact Info, Message, Notification সহ সবকিছু PC থেকে Access করতে পারবেন।

  • Google Task & Google Keep
Google task গুগোল টাস্ক

আমাদের লিস্টের পাচ নাম্বারে রয়েছে দুটি অ্যাপ একসাথে। প্রথমটি হচ্ছে Google Task, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে Google Keep। আমাদের কাছে এই দুটি অ্যাপ অনেক বেশি Productive লেগেছে। এবং এই দুটি App আমরা রেগুলারলি ব্যবহার করে থাকি।

Google task হচ্ছে একটা To Do Llist এর অ্যাপ। যেখানে আমরা আমাদের কাজ গুলোর লিস্ট করে রাখি। যেমন আমাদের কোন কাজটি Pending রয়েছে অথবা কোনটা Complete করা হয়ে গেছে সেগুলো।

এবং কোন কাজ Complete হয়ে গেলে সেটাতে টিক চিহ্ন দিয়ে দিলে তখনই সে কাজটা Completed কাজের লিস্টে চলে যাবে। এবং আমরা যখনই Complete হওয়া কাজের লিস্ট গুলো দেখি তখন নিজের মধ্যে একটা মটিভেশন কাজ করে। আবার Pending কাজের লিস্ট গুলো দেখলেও সময় নষ্ট না করে Pending কাজগুলো Complete করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সেইসাথে কাজdগুলোর মধ্যে আমরা রিমাইন্ডার সেট করে দিতে পারি। এতে করে এক একটা কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এবং নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার পরে তখনই আপনাকে মোবাইল নোটিফিকেশন দিতে থাকবে, কাজটি করার জন্য। সেই সাথে Task এর আন্ডারে SubTask এড করা যায়। এটি খুব ভালো একটি অ্যাপ যেটি ব্যবহারের ফলে আমাদের Work Life অনেক Easy হয়ে যায়।

Google Keep গুগোল কিপ

আর Google Keep হচ্ছে একটা Note Keeping App । আমরা প্রচুর পরিমানের Note রাখি Google Keep-এ । যখনই Important কোন কিছু মাথায় আসে তখনই সেটা Google Keep-এর মাধ্যমে আমরা লিখে রাখি। 

সেইসাথে Google Keep-এ আপনারা ছবি তুলেও Note করে রাখতে পারবেন। এই ধরনের অনেকগুলো ফিচার রয়েছে Google Keep-এ। আপনারা অবশ্যই Google Keep চেক করে নিবেন। আশা করি আপনার কাজে আসবে। 

এই ২ টা অ্যাপ আরেকটা বড় ফিচার হচ্ছে, যেহেতু এগুলো গুগলের অ্যাপ তাই জিমেইলের মাধ্যমে ডেটা গুলো Synchornize করা যায়। তাই ডিভাইস পাল্টালেও সব ডেটা একটা ইমেইলেই থেকে যায়।

এই ২ টি অ্যাপ আপনার ফোনে না থাকলে এখনি দেখে নিতে পারেন।

  • Wallet (ওয়ালেট):
Wallet ওয়ালেট

আমাদের লিস্টের ৬ নাম্বার এবং সর্বশেষ অ্যাপটি হচ্ছে “Wallet” ধরুন আপনি একজন Family Person আপনাকে আপনার Family Maintain করতে হয়। যে কারণে প্রচুর পরিমাণে আয় এবং ব্যায়ের হিসাব রাখতে হয়। তার জন্য এই অ্যাপটি আপনার বেশ কাজে আসবে। 

এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি আপনার আয় এবং ব্যায়ের সকল হিসাব খুব সহজেই রেখে দিতে পারবেন। এখানে আপনি আপনার সবগুলো একাউন্টের হিসাব রেখে দিতে পারেন। যেমন আপনার ব্যাংক একাউন্টে কত টাকা জমা আছে, আপনার কাছে ক্যাশ কত আছে, আপনার বিকাশ কিংবা অন্যান্য একাউন্টে কত টাকা আছে সেগুলো একসাথ করে হিসাব রাখতে পারবেন। 

এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে যেই ইনকাম গুলো আসবে সেই ইনকাম গুলোর হিসাব রাখতে পারবেন। সেই সাথে আপনি কোথায়, কবে, কোন সময় কত টাকা খরচ করেছেন সেই খরচের লিস্ট ও রাখতে পারবেন গুছিয়ে। 

মাস শেষে এই অ্যাপটি আপনাকে সুন্দর একটি রিপোর্ট দেখাবে যে আপনার ইনকাম কত, আপনার খরচ কর, আপনার হাতে বর্তমানে আছে কত। এই রিপোর্টটি দেখে আপনি একটা আইডিয়া নিতে পারবেন যে কিভাবে খরচ কমানো যায়। যার ফলে কিছু টাকা সেইভও করা যায় পরের মাসে।

এই অ্যাপটি যদি আপনি ব্যবহার করে না থাকেন, তাহলে আমরা বলব অবশ্যই এই অ্যাপটি ব্যবহার করুন। 

এই ছিল আমাদের লিস্টের ৬-টি অ্যাপ এর বিস্তারিত আলোচনা। আপনি যদি একজন Smarthphone User হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই ৬-টি অ্যাপ ব্যবহার করে দেখবেন। আমরা মনে করি এই ৬-টা অ্যাপ থেকে কোন একটা অ্যাপ অবশ্যই আপনার কাজে আসবে।

আর এই ৬-টি অ্যাপস সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে পারেন। দেখা হচ্ছে পরবর্তী কোন আর্টিকেলে, সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of