DJI Mavic Air 2: নতুন মিড-র‍্যাঞ্জ ড্রোনের Spec, Price & Features

0

“ড্রোন” এর কথা মাথায় এলেই সবার প্রথম যেই ব্রান্ডের কথা আমাদের মাথায় আসে সেটি হলো DJI কোম্পানিটি। কারণ, যতগুলো ড্রোন কোম্পানি মার্কেটে এভেইলেবল আছে তাদের মাঝে এই ‘DJI’ ব্রান্ডটি সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে এবং তারা সফল ভাবেই একটির পর একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি ও ভালো মানের ড্রোন বাজারে রিলিজ করে যাচ্ছে। ‘DJI’ এর ড্রোন গুলো সম্পর্কে আমরা প্রত্যেকেই কম-বেশি জানি। সম্প্রতি তারা নতুন একটি ড্রোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। সেই মডেলটি হচ্ছে ‘Mavic Air 2’। তাহলে আমাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে এই নতুন ড্রোনে কি কি আছে এবং নতুন কি কি ফিচার নিয়ে আসছে আগের মডেলের তুলনায়? আমার আজকের এই আর্টিকেলে আমি সেই বিষয় নিয়েই সংক্ষেপে আলোচনা করবো এখানে।

প্রায় আড়াই বছর আগে বের হয়েছিল ‘Mavic Air’, যা তখন ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল সবার মাঝে। আগের মডেল থেকে এই নতুন মডেলে নানা দিক থেকে উন্নতি আনা হয়েছে। ‘Mavic Air 2’ তে আমরা পাচ্ছি 4K 60FPS ভিডিও, ৪৮ মেগাপিক্সেলের ছবি, 8K (Eight) Hyper-lapse ভিডিও রেকর্ডিং করার সুবিধা। এছাড়াও এতে রয়েছে আগের চেয়ে বড় ইমেজ সেন্সর, ৩৪ মিনিট পর্যন্ত একটানা উড়তে পারার সক্ষমতা সহ আরো অনেক কিছু। অরিজিনাল Mavic Air এর ফ্লাইট টাইম ছিল মাত্র ২১ মিনিট। রিমোট কন্ট্রোলারের ডিজাইন কেও আরো উন্নত করা হয়েছে।

DJI দাবি করেছে এই ড্রোনটিই হচ্ছে এখন পর্যন্ত বানানো সবচেয়ে নিরাপদ এবং স্মার্ট ড্রোন। এই ড্রোনে যেই সেন্সর টি দেয়া হয়েছে তা খুব সহজেই তুষার, গাছ, ঘাস, নীল আকাশ, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত শনাক্ত করতে পারবে। যা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যে আরো বেশি ভালো হবে বলে আমি মনে করি।

আর ভিডিও রেকর্ডিং এর ক্ষেত্রে 4K 60FPS ছাড়াও এতে 8K তে Hyper-lapse রেকর্ড করা যাবে। ভিডিও রেকর্ড করা যাবে এবং HDR কোয়ালিটিতেও (4K 30 FPS)। এছাড়া Upto 240FPS এ স্লো মোশনও করা যাবে এতে। এই ড্রোনের রেঞ্জের ব্যাপারে বলতে গেলে জানাতে হয় এটি ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত Full HD কোয়ালিটি ভিডিও ডাটা ট্রান্সমিশন করতে পারবে, যা আমাদের জন্যে একেবারে পারফেক্ট বলে আমি মনে করি।

অন্যান্য ড্রোনে আমরা এখন পর্যন্ত ১২ মেগাপিক্সেল পর্যন্ত ইমেজ ক্যাপচারিং ক্যাপাবিলিটি পেয়েছিলাম, কিন্তু এবারই প্রথম এই নতুন মডেলে আমরা পাচ্ছি ৪৮ মেগাপিক্সেল ইমেজ ক্যাপচার ক্যাপাবিলিটি, যদিও এটা নরমালি ১২ মেগাপিক্সেলেই ছবি ধারণ করে থাকবে পিক্সেল বিনিং টেকনোলজির মাধ্যমে, এবং এর সেন্সর এর সাইজ হচ্ছে ০.৫ ইঞ্চি। অর্থাৎ খুব ভালো আউটপুট দিবে বলে আমি আশা করি।

এছাড়াও ড্রোনটিতে অনেক ধরনের সেইফটি ফিচার থাকবে যেমন, Obstacle Avoidance, AirSense ইত্যাতি। পাশাপাশি জনপ্রিয় সবগুলো Quick Shot অপশন থাকছে। Mavic Air 2 তে Active Track 3.0, Spotlight 2.0, and Point of Interest 3.0 এর মতো কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা ক্রিয়েটিভ এবং সিনেমেটিক ভিডিও রেকর্ড করতে সাহায্য করবে।

আর এর রিমোট কনট্রোলটিও আগের থেকে কিছুটা উন্নত করা হয়েছে। এখান আর কোন এন্টেনা দেখা যাচ্ছে না রিমোটে তবে আকারে আগের তুলনায় একটু বড় এই রিমোটটি। এছাড়া ড্রোনটি উড়ানোর জন্য DJI Fly নামের নতুন অ্যাপটি ব্যবহার করতে হবে। নতুন এই অ্যাপে ভিডিও এডিট করার মতো সুবিধা সহ আরও বেশ কিছু নতুন ফিচার যোগ হয়েছে।

এবার আসি দাম কত হবে এই ড্রোনের। DJI ঘোষণা করেছে এর রেগুলার ভার্সনের দাম হবে ৭৯৯ ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করলে আসে প্রায় ৭০ হাজার টাকার মত। এবং Fly More Combo এর দাম ৯৮৮ ডলার বা আনুমানিক ৮৪ হাজার বাংলাদেশী টাকা। তবে অবশ্যই বাংলাদেশে আসলে দামটা আরেকটু বেশি হবে ট্যাক্স যোগ হওয়ার পর। এই ড্রোনের প্রি-অর্ডার শুরু হয়ে গিয়েছে এবং শিপিং শুরু হবে ১১ মে, ২০২০ থেকে। বিশ্বজুড়ে লকডাউনের কারণে আমাদের দেশে প্রোডাক্টটি আসতে দেরি হবে বলে আমার মনে হচ্ছে। যাই হোক, আশা করছি এই DJI Mavic Air 2 এর ফুল রিভিউ নিয়ে আমরা হাজির হয়ে যাবো ইন শা আল্লাহ।

প্রযুক্তির সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ অথবা ফলো করুন ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট!

আমার এই লিখা যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আমার ইউটিউব চ্যানেলে ঘুরে আসতে পারেন। ধন্যবাদ!

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of