Itel Vision 1 Review & Giveaway – A Perfect Low Budget

0
“Itel Vision 1” Front Part.

গিভওয়েঃ

আজকে আমরা “Itel Vision 1” ফোনটি গিভওয়ে করবো। যারা আমাদের “Itel Vision 1” এর রিভিউ ভিডিওটা দেখছেন তাদের মধ্য থেকে একজন লাকি ইউনার এই ফোনটি জিতে নিতে পারবেন।  গিভওয়ে যেভাবে জয়েন করবেনঃ 

বিঃ দ্রঃ গ্রুপের পিন পোষ্টে সব নিয়ম জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আর আমরা ১-এপ্রিল বিজয়ী ঘোষনা করবো। তাই আর দেরি না করে গ্রুপে জয়েন করুন এবং প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জিতে নিতে পারেন এই “Itel Vision 1” ফোনটি।

রিভিউঃ(Review):

ফিচার ফোনের জগতে “Itel” কতটা জনপ্রিয় তা একটু গ্রামের দিকে গেলে ভালো ভাবে বুঝা যায়। মানুষ প্রচুর পরিমানে “Itel” ফোন ব্যাবহার করে। এবং যারা এই ফিচার ফোনগুলো থেকে স্মার্টফোনে আপগ্রেড করে, গ্রামের ভাষায় “বাটন ফোন থেকে যারা টাচ ফোনে আপগ্রেড করে” তাদের জন্য “Itel”-এর বেশ কিছু ডিভাইস আছে যেগুলো অনেক জনপ্রিয়। রিসেন্টলি “Itel” তাদের নতুন একটি ফোন রিলিজ করেছে যার নাম “Vision 1”। Vision আইটেলের নতুন একটি লাইন-আপ। এই ফোনটির মূল্য মাত্র “৬,৯৯০ টাকা”। এবং এরকম কম দামের মধ্যেই “Itel” তাদের ফোনগুলো বাজারে আনে।

তো, আজকে আমরা দেখবো এই কম বাজেটের ফোনটি আসলে কেমন? এবং যারা এই ফোনটি ব্যাবহার করবে তাদের জন্য এটি কি কি সুবিধা দিবে এই বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

“Itel Vision 1” Back Side.

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আমরা এই “Itel Vision 1” ফোনটি ব্যবহার করছি। আর ফোনটি নিয়ে আমাদের এই এক সপ্তাহের অভিজ্ঞতার কথাই আজকে জানাবো।

স্পেসিফিকেশন (Specification):
  • Display: 6.088 Inch, HD+ IPS LCD Panel.
  • RAM & ROM: 2GB, 32GB.
  • Processor: Octa Core, 1.6 GHz (UniSoC SC9863A).
  • Rear Camera: Dual 8+0.3 Megapixel.
  • Front Camera: 5 Megapixel.
  • Battery: 4000mAh.
  • Other: Android 9, Fingerprint Scanner

ডিজাইন এবং বিল্ড (Design & Build): 

এটি মাত্র ৬,৯৯০ টাকার একদমি এন্ট্রি লেভেলের একটি ফোন তাই হাতে নিয়ে আপনি সেই সস্তা অনুভুতিটা পাবেন। তবে প্ল্যাস্টিক বিল্ডের এই ফোনটির বডি 2.5D Curved হওয়ায় হাতে ধরতে বেশ ভালো লাগে।

আর অনেকে হয়তো শুরুতেই খেয়াল করে ফেলেছেন এই ফোনটির ডিজাইনটা অনেকটা “iphone-11” এর মতো। কারন পেছনের ক্যামেরার বাম্পটা “iphone-11” এর মতো করে দেওয়া হয়েছে। তাই এটাকে আমরা গরিবের “iphone” বলতেই পারি।

“Itel Vision 1” Camera Design.

এবং এর পিছনের কালারটি হচ্ছে “Purple to Black” কালারের একটি গ্রেডিয়েন্ট। এর আরো একটি কালার পাবেন সেটা হচ্ছে “Blue Gredient” এর। আর এর পেছনে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ব্যাবহার করা হয়েছে যেটা একটা পজিটিভ জিনিষ। কারণ এই দামের ফোন থেকে একটা ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার থাকা অনেক বড় বিষয়। সেই সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারের স্পীডও বেশ ভাল ছিল, একই সাথে এটায় ফেস-আনলক ও রয়েছে যার স্পীডও বেশ ভালো তবে সেটা ভালো লাইটের ক্ষেত্রে, লাইট কমে গেলে অতটা ভাল কাজ করেনা।

ডিসপ্লে (Display):

“Itel Vision 1” Display & Video Quality.

ওয়াটার ড্রপ নচ যুক্ত এই ডিসপ্লেটি HD+ রেজুলেশনের। তার মানে এখানেও একটা ভাল ফিচার আমরা পাচ্ছি। এটাতে ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা অনেক ভালো ছিল, কালার নেগেটিভিটি তেমন ছিল না, আর ব্রাইটনেসও অনেক ভালো ছিল।

বাটন এবং পোর্টস (Buttons and Ports):

ডান পাশে দেয়া হয়েছে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম বাটন। উপরের দিকে আছে 3.5mm আডিও জ্যাক, আর বাম পাশে কোন কিছুই নেই, নিচের দিকে আছে মাইক্রো ইউসবি পোর্ট, প্রাইমারী মাইক্রোফোন এবং বটম ফায়ারিং স্পিকার।

“Itel Vision 1” Sim and Memory Card Slot

সিম কার্ড লাগানোর জন্য এর ব্যাকপার্ট খুলতে হবে, ব্যাকপার্ট খুললে দেখা যাবে দুইটা সিম কার্ড স্লট আছে এবং একটি ডেডিকেটেড ম্যামোরি কার্ড স্লট আছে যেটাতে আপনারা ১২৮-জিবি পর্যন্ত এক্সপান্ড করতে পারবেন।

সফটওয়্যার এবং ইউআই (Software and UI):

এই ফোনটির সফটওয়্যার হিসেবে দেওয়া হয়েছে Android 9.0 (Pie)। আর এর UI টি বেশ অপ্টিমাইজড মনে হয়েছে আমার কাছে। এটা সম্ভবত আমর দেখা প্রথম কোন ফোন যেটা অ্যাপ ডাউনলোড করার পরে সেটার ব্যাকগ্রাউন্ড প্রেসেস তো কিল করেই এবং যেই অ্যাপস গুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে রান হয়ার দরকার নেই সেগুলোকে ডিজেবল পর্যন্ত করে রাখে! যাতে অটোমেটিক রান না হতে পারে। এর ফলে ফোনের র‍্যামের ব্যাবহার কম হয় এবং ফোন ফাস্ট থাকে। তবে আপনার ব্যবহৃত দরকারি অ্যাপস গুলো অটো ডিজেবল হয় না। যেমন ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপের মত দরকারি অ্যাপ গুলো ঠিকই রান হয়। আর ডিজেবল হওয়া অ্যাপটি অ্যাপ ড্রয়ার থেকে রান করলে অটো সেটি এনাবল হয়ে যায়। একটা এন্টি লেভেলের ফোন হিসেবে এটিকে অনেক ভাল একটি ফিচার বলা যায়। 

পারফর্মেন্স (Performance):

এই ফোনে যে প্রসেসরটি ব্যাবহার করা হয়েছে সেটি একদমি এন্ট্রি লেভেলের ফোনে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। এটি Octa-Core, 1.6GHz এর একটি প্রসেসর, এবং SoC টি হচ্ছে UniSoC SC9863A। তবে বাজেট হিসেবে এই প্রসেসরটি আমাদের কাছে ঠিকঠাকই লেগেছে। ডে-টু-ডে যে কাজগুলো আছে যেমনঃ রেগুলার ফেসবুক ব্যাবহার করা, মাঝে মধ্যে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা, ইউটিউবে ভিডিও দেখার মতো কাজগুলোতে কোন সমস্যা হয় না কিন্তু যদি আপনি ৪-৫ টা অ্যাপ এক সাথে রান করেন তখন ল্যাগ করতে পারে।

“Itel Vision 1” PUBG Mobile.

আর গেমিং এর কথা যদি বলা হয় তাহলে আমরা বলবো ছোট ছোট যে গেমস গুলো রয়েছে সেগুলো খেলার আশা করতে পারেন। তবে অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে এটাতে PUBG Mobile ও খেলতে পারবেন। PUBG তে বাই ডিফল্ট Smooth Graphics এবং Medium Frame Rate সাজেস্ট করে। যদিও মিডিয়াম ফ্রেমরেটে খেলতে গেলে মাঝে মধ্যে একটু ল্যাগ দেখা যাবে সাথে ফ্রেম ড্রপও থাকে। ফ্রেমরেট Low তে রাখলে মোটামোটি খেলার মতো হয়। এই বিষয়টা দিয়েই হয়তো আইডিয়া করতে পারবেন এর পারফর্মেন্স কেমন হবে।

ক্যামেরা (Camera):

“Itel Vision 1” Camera.

এর পেছেনে রয়েছে ‘iphone 11’ এর মতো ডিজাইনের ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ, সাথে রয়েছে একটি ফ্ল্যাশ লাইট। এর প্রাইমারী ক্যামেরাটি হচ্ছে “৮-মেগা পিক্সেলের”, সাথে থাকা দ্বিতীয় ক্যামেরা AI Scene Detection এর জন্য ব্যাবহার করা হয়। ছবির কোয়ালিটি বেশ ভালো। ভালো লাইটে খুবই ভালো মানের ছবি পাওয়া যায় তবে লাইট কমে গেলে ছবি খুব একটা ভালো আসে না।

সামনের ক্যামেরাটি “৫-মেগা পিক্সেলের”। সামনের ক্যামেরা দিয়েও ভাল ছবি আসে যদি লাইট ভাল হয়। কিছু ছুবির স্যাম্পল নিচে দেওয়া হল।

সামনে এবং পেছনে ২ টি ক্যামেরা দিয়েই Portrait মোডে ছবি তুলা যায়। যদিও Portrait ছবি গুলো খুব একটা ভালো মানের হয় না তবুও এই বাজেটের ফোনে এই অপশনটি থাকাই অনেক বড় বিষয়।

ছবি গুলো বিবেচনা করে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এই বাজেটের ফোন গুলোর মধ্যে এটি বেষ্ট ক্যামেরা। আর এই ফোনের সামনে এবং পেছনে ২ টি ক্যামেরা দিয়েই 1080p 30FPS-এ ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। ভিডিও কোয়ালিটি চালিয়ে নেওয়ার মতো।

ব্যাটারি (Battery):

ফোনটিতে 4000 mAh ব্যাটারি ব্যাবহার করা হয়েছে। এই ব্যাটারি দিয়ে বেসিক ইউজে এক দিন পুরো পার করে দিতে পারবেন। তবে যেহেতু বক্সে একটি ৫-ওয়াটের চার্জার দেওয়া থাকে তাই চার্জিংটা একটু স্লো হবে। ফোনটি ফুল চার্জ হতে ৩ ঘন্টার বেশি সময় লেগে যায় । তবে বাজেট বিবেচনায় এটা মানিয়ে নেয়ার মতো।

পরিশেষে, আইটেল ভিশন ১ এই দামে বেশ ভালো একটি ডিভাইস। যারা অল্প দামে মোটামোটি সব ফিচার যুক্ত একটি স্মার্টফোন খুঁজছেন তাদের জন্য এটি শতভাগ সাজেস্টেট থাকতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here