Itel Vision 1 Plus Full Review 2020 | Giveaway

0

গিভওয়েঃ

আজকে আমরা “Itel Vision 1 Plus” ফোনটি গিভওয়ে করবো। যারা আমাদের “Itel Vision 1 Plus” এর রিভিউ ভিডিওটা দেখছেন তাদের মধ্য থেকে একজন লাকি উইনার এই ফোনটি জিতে নিতে পারবেন।  গিভওয়ে যেভাবে জয়েন করবেনঃ 

আমরা ৩০ দিন পরে বিজয়ী ঘোষনা করবো। তাই আর দেরি না করে গ্রুপে জয়েন করা সহ বাকি স্টেপ গুলো ফলো করে জিতে নিতে পারেন এই “Itel Vision 1 Plus ” ফোনটি।

রিভিউঃ

আজকে আমরা “Itel Vision 1” এর পরবর্তী ভার্সন “Itel Vision 1 Plus” এই ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। এই ফোনটি “Itel Vision 1” থেকে সব দিক দিয়ে আপডেটেড। এর মূল্য হচ্ছে বাংলাদেশে মাত্র “৯,৪৯০ টাকা”।

স্পেসিফিকেশন (Specification):

  • Display: 6.5 Inch, HD+ IPS LCD Panel 
  • RAM & ROM: 3GB/2GB, 32GB
  • Processor: uniSOC  sc9863a Octa-core 1.6GHz
  • Rear Camera: Dual 13MP + VGA AF
  • Front Camera: 8 Megapixel
  • Battery: Non-removable Li-Po 5000 mAh 
  • Other: Android™ 9 Pie, Fast Charging 10W (3GB only)

ডিজাইন এবং বিল্ড (Design & Build): 

এটা যেহেতু এন্ট্রি লেভেলের একটি ফোন বুঝতেই পারছেন ফুল প্ল্যাস্টিক বডি। এর পিছনে দেয়া হয়েছে Gradient Purple কালার। এই ফোনের আরো একটি Gradient Blue কালার আছে। আর ব্যাক পার্টটি একদম সমান না, একটা টেক্সার আছে যার ফলে হাতের ছাপ কিছুটা কম পড়বে। আর এই ফোনের বক্সে একটি হার্ড প্ল্যাস্টিক কেইস আছে সেটাও আপনারা ব্যবহার করতে পারেন। 

আর অনেকে হয়তো শুরুতেই খেয়াল করে ফেলেছেন এই ফোনটির ডিজাইনটা অনেকটা “iphone-11” এর মতো। কারন পেছনের ক্যামেরার বাম্পটা “iphone-11” এর মতো করে দেওয়া হয়েছে। তাই এটাকে আমরা গরিবের “iphone” বলতেই পারি। 

আর এর পেছনে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ব্যবহার করা হয়েছে, যার স্পীডও বেশ ভাল ছিল।  একই সাথে এটাতে ফেস-আনলক ও রয়েছে যার স্পীডও বেশ ভালো, তবে সেটা ভালো লাইটের ক্ষেত্রে। লাইট কমে গেলে অতটা দক্ষভাবে কাজ করতে পারে না।

ডিসপ্লে (Display):

সামনে ব্যবহার করা হয়েছে 6.5 ইঞ্চি HD+ রেজুলেশনের একটি Panel । এই ডিসপ্লের কোয়ালিটি দামের তুলনায় মোটামোটি ঠিকই আছে। তবে ডিসপ্লের সাইজ আনুযায়ী রেজুলেশন একটু কম হয়ে গেছে যে কারণে আমরা যখন ভিডিও দেখবো ৭২০ পিক্সেলে কিংবা আপনারা যখন হোম স্কিনে দেখবেন তখন সার্পনেসের একটা আভাব লক্ষ করতে পারবেন। যদিও এই বাজেটে এটা মানিয়ে নেয়ার মতো। 

এটাতে কোন কালার নেগেটিভিটি ছিল না, আর ব্রাইটনেসও অনেক ভালো ছিল। এছড়া ডিসপ্লের উপরে থাকা ওয়াটার ড্রপ নচটিও বেশ ছোট, তাই ভিডিও দেখতে  মোটামোটি ভালোই লাগছিলো। 

বাটন এবং পোর্টস (Buttons and Ports):

ডান পাশে দেয়া হয়েছে ভলিউম রকার এবং পাওয়ার বাটন।  আর বাম পাশে দেয়া হয়েছে ডুয়েল ন্যানো সিম কার্ড স্লট এর সাথে একটি ডেডিকেটেড মেমোরি কার্ড স্লট। নিচের দিকে আছে 3.5mm অডিও জ্যাক, প্রাইমারি মাইক্রোফোন, মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, এবং বটম ফায়ারিং স্পিকার। আর উপরের দিকে কিছুই নেই। 

সফটওয়্যার এবং ইউআই (Software and UI): 

এই ফোনটির সফটওয়্যার হিসেবে দেওয়া হয়েছে Android 9.0 (Pie) আর এটা একটি পুরনো ভার্সন নতুন ভার্সনে এখন পর্যন্ত কোন আপডেট দেখিনি। আর এর UI টি বেশ অপ্টিমাইজড মনে হয়েছে আমার কাছে। আর এটাতে কিছু ব্লুটওয়ার ও আছে। 

এই ফোনে কোন অ্যাপ ডাউনলোড করার পরে সেটা ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস তো কিল করেই এবং যেই অ্যাপস গুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে রান হওয়ার দরকার নেই সেগুলোকে ডিজেবল পর্যন্ত করে রাখে! যাতে অটোমেটিক রান না হতে পারে। এর ফলে ফোনের র‍্যামের ব্যাবহার কম হয় এবং ফোন ফাস্ট থাকে। তবে আপনার ব্যবহৃত দরকারি অ্যাপস গুলো অটো ডিজেবল হয় না। যেমন ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপের মত দরকারি অ্যাপ গুলো ঠিকই রান হয়। আর ডিজেবল হওয়া অ্যাপটি অ্যাপ ড্রয়ার থেকে রান করলে অটোমেটিক সেটি এনাবল হয়ে যায়। একটা এন্ট্রি লেভেলের ফোন হিসেবে অনেক ভাল একটি ফিচার বলা যায়। 

পারফর্মেন্স (Performance):

এই ফোনে যে প্রসেসরটি ব্যাবহার করা হয়েছে সেটি একদমই এন্ট্রি লেভেলের ফোনে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। এটি Octa-Core, 1.6GHz এর একটি প্রসেসর, UniSoC SC9863A তবে বাজেট হিসেবে প্রসেসরটি আরেকটু বেটার হলে ভাল হত। আর এই ফোন ৩ জিবি এবং ২ জিবি র‍্যাম ভেরিয়েন্টে পাওয়া যাবে। ফোনটির র‍্যাম ম্যানেজমেন্টকে আবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে কারণ ডে-টু-ডে যে কাজগুলো রয়েছে তাতে কোন সমস্যা আমরা পাইনি। যেমনঃ রেগুলার ফেসবুক ব্যবহার করা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা, ইউটিউবে ভিডিও দেখার মতো কাজগুলোতে কোন সমস্যা দেখা যায়নি।

আর গেমিং এর কথা যদি বলা হয় তাহলে আমরা বলবো ছোট ছোট যে গেমস গুলো রয়েছে সেগুলো খেলার আশা করতে পারেন। আর পাবজি যদিও চলে তবে সেটা একদমি লো সেটিং-এ। পাবজিতে মাঝে মদ্ধ্যে একটু ফ্রেম ড্রপ করে এছাড়া মেজর কোন সমস্যা আমরা পাই নি। তবে যদি পাবজির মতো বড় গেম গুলো রেগুলার খেলার ইচ্ছা থাকে তাহলে এই ফোনটি না নেওয়াই ভালো হবে, কারন এটি গেমিং ডিভাইস না।ডেতেচতিওন 

ক্যামেরা (Camera):

এর পেছেনে রয়েছে ‘iphone 11’ এর মতো ডিজাইনের ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ, সাথে রয়েছে একটি ফ্ল্যাশ লাইট। এর প্রাইমারী ক্যামেরাটি হচ্ছে “১৩-মেগা পিক্সেলের”, সাথে থাকা দ্বিতীয় ক্যামেরা টি VGA Auto Focus Lens। ছবির কোয়ালিটি বাজেট বিবেচনায় এভারেজ ছিল। ভালো লাইটে মোটামুটি  ভালো মানের ছবি পাওয়া যায় তবে লাইট কমে গেলে ছবি খুব একটা ভালো আসে না। নিচে কিছু ছবির স্যাম্পল দেওয়া হল।

সামনের ক্যামেরাটি “৮-মেগা পিক্সেলের”। সামনের ক্যামেরা দিয়েও ভাল ছবি আসে যদি লাইট ভাল হয়। কিছু ছবির স্যাম্পল নিচে দেওয়া হল।

সামনে এবং পেছনে ২ টি ক্যামেরা দিয়েই Portrait মোডে ছবি তুলা যায়। Portrait ছবি গুলো আমাদের কাছে মোটামুটি  মানের লেগেছে। 

আর এই ফোনের সামনে এবং পেছনে ২ টি ক্যামেরা দিয়েই 1080p 30FPS-এ ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। দাম অনুযায়ী ভিডিও কোয়ালিটি ভালো।

ব্যাটারি (Battery):

ফোনটিতে 5000 mAh ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যাটারি দিয়ে রেগুলার ব্যবহারে আড়াই দিন পুরো পার করে দিতে পারবেন। এর বক্সে একটি ১০-ওয়াটের চার্জার দেওয়া হয়েছে তাই চার্জিংটা মোটামোটি ফাস্ট হবে। তবে ১০ ওয়াট চার্জার শুধু ৩ জিবি র‍্যাম ভেরিয়েন্টে থাকবে ২জিবিতে থাকবে না।  

পরিশেষে, আইটেল ভিশন ১ প্লাস এই দামে বেশ ভালো একটি ডিভাইস। যাদের কাছে গেমিং খুব একটা জরুরি না তাদের জন্য অল্প দামে ভালো একটি ফোন এটি। আমাদের কাছে এর ব্যাটারি, ডিস্পলে এবং ডিজাইনটি ভালো লেগেছে।    

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here