Oppo F15 – The Beauty – In Depth Review

0

আমাদের আরও একটি স্মার্টফোন রিভিউ এর আর্টিকেলে আপনাকে স্বাগতম। আমরা আজকে আলোচনা করবো ওপ্পো এফ ১৫-(Oppo F15) নিয়ে। বেশ আয়োজন করে ওপ্পো তাদের এফ সিরিজের নতুন ফোনটি লঞ্চ করেছে, এবং তারা এই ফোনটি নিয়ে বেশ কনফিডেন্ট, এটা বুঝতে পারলাম কিছুদিন আগে বাংলাদেশে হওয়া এফ-১৫ এর লঞ্চিং ইভেন্ট এ গিয়ে। যদিও লঞ্চ হওয়ার কিছুদিন আগে থেকেই এই ফোনটি ব্যবহারের সুযোগ আমরা পেয়েছি, এবং এই ফোনটি ব্যবহার করার পরে আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেটি আজকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করব।

ওপ্পো এফ-১৫ মিড রেঞ্জের একটি ফোন এবং বাংলাদেশের বাজারে এর দাম ধারণ করা হয়েছে ২৬,৯৯০৳, এই দামে এই ফোনটি কতটুকু এপ্রোপ্রিয়েট এটাই আজকের মূল আলোচনার বিষয়।

স্পেসিফিকেশন (Specification):

  • ওপ্পো F15 Smartphone টি January 2020 তে এনাউন্স করা হয়েছিল।
  • এটি একটি Dual SIM Smartphone
  • স্মার্টফোনটিতে 8 GB র‍্যাম পাওয়া যায়।
  • ফোনটি 128 GB অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের সঙ্গে পাওয়া যায়।
  • ফোনটি 4025 mAh ব্যাটারি দ্বারা চালিত হয়।
  • ওপ্পো F15 এর কানেক্টিভিটি অপশনগুলি হলোঃ GPS,HotSpot
  • কোয়াড ক্যমেরা সেটাপঃ 48 + 8 + 2 + 2 MP (HDR)
  • ফ্রন্ট ক্যমেরাঃ 16MP
Oppo F15 Font Part.

ডিজাইন এবং বিল্ড (Design & Build): 


এই ফোনটি হাতে নেয়ার পরে প্রথম যে জিনিসটি আমরা বুঝতে পেরেছি তা হচ্ছে এই ফোনটির ডিজাইন এবং এর লুক, স্পেশালি কালারটা আমাদের কাছে অনেক অনেক ভালো লেগেছে। এখন আমাদের কাছে যে ফোনটি রয়েছে এটি হচ্ছে ইউনিকর্ন-হোয়াইট কালারের একটি ফোন, এর আরো একটি কালার রয়েছে সেটি লাইটেনিং-ব্ল্যাক। যদিও বিল্ড মেটারিয়াল প্লাস্টিকের তারপরও দেখতে অনেক ভালো লাগছে। প্লাস্টিকের ইউনি-বডি ডিজাইনের এই ফোনটির আরেকটা বড় গুণ হচ্ছে; এর বডি টা অনেক স্লিম, মাত্র ৭.৯ মিলিমিটার থিক এটি। যেহেতু এটা প্লাস্টিক বডি তার উপরে আবার স্লিম সুতারং সবমিলিয়ে এর ওজনও অনেক কমে গিয়েছে। মাত্র ১৭২ গ্রাম এর ওজন।

Oppo F15 Back Part.

বাটন এবং পোর্টস (Buttons and Ports):

এই ফোনটির ডান পাশে রয়েছে পাওয়ার বাটন, বামপাশে ভলিউম বাটন, তার ঠিক উপরে আছে দুটি সিম (ন্যানো) কার্ড এবং একটি এসডি কার্ড লাগানোর স্থান। এই ফোনটির নিচের দিকে রয়েছে একটি 3.5mm অডিও জ্যাক এবং এর বক্সের মধ্যে রয়েছে একটি হেডফোন যার লুকটি দেখতে অনেক ভাল লাগছিল। ডানপাশে আরও আছে প্রাইমারি মাইক্রোফোন, ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট এবং একটি বটম ফায়ারিং স্পিকার।

Oppo F15 Pubg Mobile.

ডিসপ্লে (Display):

এই ফোনটির সামনে ৬.৪ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস (১০৮০x২৪০০) রেজুলেশনের ২০ঃ৯ এস্পেক্ট রেশিওর একটি এমোলেড প্যানেলের ডিসপ্লে রয়েছে। ডিস্প্লের কোয়ালিটি আমাদের কাছে বেশ লেগেছে। এমোলেড প্যানেল হওয়ার কারণে এটাতে একুরেট কালার পাচ্ছিলাম, কালার গুলো অনেক ভিভিড ছিল। ব্রাইটনেস ও ঠিকঠাক পরিমাণে ছিল। আউটডোরেও স্ক্রিন স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিলো। এটাতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালিটিফুল একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার যা শুধু আমাদের নয় সবার কাছেই বেশ ভাল লেগেছে, এছাড়া ফেইস আনলকও রয়েছে এতে।

ক্যামেরা (Camera):
Back camera

ওপ্পো বরাবরই ক্যামেরা সেকশনের দিকে অনেকটা খেয়াল রাখে এবং এফ সিরিজের ফোনগুলোতে স্পেশালি ক্যামেরা অনেকটা ভালো থাকে। এই ফোনটির পেছনে কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ আছে, পিছনের ক্যামেরা ৪৮ + ৮ + ২ + ২ মেগাপিক্সেলের। কম আলোতেও ছবির কোয়ালিটি ভালো সেই সাথে পোট্রেইট শট গুলোও ছিল জোশ। কিন্তু পেছনে কেবল ১০৮০ পিক্সেলে ৩০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে ভিডিও রেকর্ড করা যাবে। এখানে ৪-কে দেওয়া উচিৎ ছিল।

Font Camera:

সামনে ব্যবহার করা হয়েছে ১৬-মেগাপিক্সেল একটি ক্যামেরা এবং আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন ওপ্পো তাদের এআই বিউটিফিকেশনের দিকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে, এবং এই ফোনটিতে ও সেইম হয়েছে। এই ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তুললে আপনার ফেইসের কালারটা বিউটিফাই হয়ে যায় সুতরাং এটা কেউ একবার বিউটি মুড দিয়ে ছবি তোলার পরে পরবর্তীতে আর সেটা বন্ধ করতে চাইবে না। মজার ব্যাপার ছিল এই ফোনটির সামনের ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করা যাবে এবং সেই ভিডিওটিতেও বিউটি-মুড রয়েছে। নিচে কিছু ছবির স্যাম্পল দেওয়া হল।

Oppo F15 Designd Lock.

পারফর্মেন্স (Performance):

এই মোবাইলটিতে ৮-জিবি র‍্যাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর ফোন মেমোরির জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে ১২৮-জিবি যেটা ছিল অনেক দুর্দান্ত।

প্রসেসর হিসেবে ব্যাবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেকের হেলিও পি৭০, এই প্রসেসরটি Snapdragon 675 এর কাছাকাছি পারফর্ম করে। প্রসেসর নিয়ে অনেকেই একটু সংকুচে থাকবে তবে মিডিয়াটেকের পি৬০ থেকে শুরু করে পরের প্রসেসর গুলোর পারফর্মেন্স তুলনামূলক অনেক ভালো।

এই ফোনে কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই পাবজি ইন্সটল করতে পারবেন এবং খুব ভালো ভাবে সেটা খেলতে পারবেন। আমরা ট্রাই করার জন্য এটাতে বড় বড় কিছু গেমস ইনস্টল দিয়েছি এবং আমরা তা থেকে খুব ভালো একটা পারফম্যান্স পেয়েছি।

ব্যাটারি (Battery):

এটাতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪০২৫-এম্পিয়ার ব্যাটারি। এই ব্যাটারি চার্জ দেয়ার জন্য বক্সে রয়েছে ২০-ওয়াটের একটি ফাস্ট চার্জার। চার্জার দিয়ে ব্যাটারিকে ফোন চার্জ করার জন্য এক ঘন্টা কিংবা এর থেকে একটু বেশি সময় নিতে পারে।

এই ফোনটির জন্য বেশ কিছু স্ট্রং পয়েন্ট রয়েছে, প্রথমটি হচ্ছে ডিজাইন লুক দেখতে অনেক সুন্দর এবং হাতে নিয়ে অনেকটা আরাম ফিল করা যায় কারণ এটা স্লিম, এছাড়া এর ক্যামেরাটি দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে, এর ডিসপ্লেটা অনেক ভালো এবং এর ব্যাটারিতে ভালো পারফম্যান্স পাবেন সাথে ফাস্ট চার্জার থাকার কারণে। সেইসাথে এই মোবাইলটির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮-জিবি র‍্যাম এটাও একটি স্ট্রং পয়েন্ট। বাকি সবকিছু মিলিয়ে আমাদের মনে হয় এই ফোনটি অনেক ভালো এবং সবার জন্য এই ফোনটি সাজেস্টেড থাকতে পারে।

এই ছিল আমাদের আজকের অপ্পো এফ-১৫ রিভিউ। আশা করি আমাদের রিভিউ-টি ভালো লেগেছে এবং ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান আপনার মতামত এবং অবশ্যই এটি শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of